Skip to main content

হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০ গান

হুমায়ূন আহমেদ। ১৩ নভেম্বর১৯৪৮ – ১৯ জুলাই২০১২

গদ্যকার, নাট্যকার , চলচ্চিত্রকার ইত্যাদি নানাবিধ পরিচয়ের বহুল প্রচার তাঁর গীতিকার পরিচয়কে ধামাচাপা দিয়ে রাখছে। হুমায়ূন আহমেদ সত্যিকার অর্থে সর্বদিকেই এক যাদুকরের নাম।
 ১৩ নভেম্বর তাঁর জন্মদিন উপলক্ষ্যে আমরা জেনে  নেব  তাঁর লেখা সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০  গানের লিরিক্স। সাথে থাকছে ইউটিউব লিংক!  

১।
যদি মন কাঁদে, তুমি চলে এসো এক বরষায়

এসো ঝর ঝর বৃষ্টিতে, জল ভরা দৃষ্টিতে

যদি কোমল শ্যামল ছায়।।



যদিও তখন আকাশ থাকবে বৈরী,

কদম গুচ্ছ হাতে নিয়ে আমি তৈরী

উতলা আকাশ মেঘে মেঘে হবে কালো
ঝলকে ঝলকে নাচিবে বিজলি আলো।। 

নামিবে আঁধার বেলা ফুরাবার ক্ষণে
মেঘমল্লার বৃষ্টির মনে মনে
কদমগুচ্ছ খোঁপায় জড়ায়ে দিয়ে
জলভরা মাঠে নাচিবো তোমায় নিয়ে।। 




২।
চাঁদনী পসরে কে আমারে স্মরণ করে

কে আইসা দাড়াইসে গো আমার দুয়ারে।

তাহারে চিনি না আমি সে আমারে চিনে।।
বাহিরে চাঁন্দের আলো ঘর অন্ধকার

খুলিয়া দিয়াছি ঘরের সকল দুয়ার।

তবু কেন সে আমার ঘরে আসেনা

সে আমারে চিনে কিন্তু আমি চিনিনা।।

সে আমারে ঠারে ঠারে ইশারায় কয়

এই চাঁদের রাইতে তোমার হইছে গো সময়।

ঘর ছাড়িয়া বাহির হও ধরো আমার হাত

তোমার জন্য আনছি গো আইজ চান্দের দাওয়াত।।
 ভিডিও লিংক- https://youtu.be/X36e9N_mcjk?list=PLS1Hg7Qpin0RgzvTf6xai0ZDZcxAtENB6

৩।                           
           একটা ছিল সোনার কন্যা- মেঘ বরণ কেশ
ভাটি অঞ্চলে ছিল সেই কন্যার দেশ
দুই চোখে তার আহা রে কি মায়া
নদীর জলে পড়ল কন্যার ছায়া 
তাহার কথা বলি
তাহার কথা বলতে বলতে নাও দৌঁড়াইয়া চলি।। 
কন্যার চিরল দীঘল চুল
তাহার কেশে জবা ফুল
সেই ফুল পানিতে ফেইলা
কন্যা করল ভুল
কন্যা ভুল করিস না
আমি ভুল করা কন্যার লগে কথা বলব না
হাত খালি গলা খালি, কন্যার নাকে নাকফুল
সেই ফুল পানিতে ফেইলা কন্যা করল ভুল
এখন নিজের কথা বলি
নিজের কথা বলতে বলতে নাও দৌঁড়াইয়া চলি
সবুজ বরণ লাউ ডগায় দুধসাদা ফুল ধরে
ভুল করা কন্যার লাগি মন আনচান করে।। 
৪। 
আমার ভাঙা ঘরে ভাঙা চালা ভাঙা বেড়ার ফাঁকে
অবাক জোছনা ঢুইকা পরে হাত বাড়াইয়া ডাকে
হাত ইশারায় ডাকে কিন্তু মুখে বলে না
আমার কাছে আইলে বন্ধু আমারে পাইবা না ।।
তুমি আমায় ডাকলা না গো তুমি রইলা দূরে
তোমার হইয়া অবাক জোছনা ডাকলো অচিন সুরে
হাত ইশারায় ডাকে কিন্তু মুখে বলে না
আমার কাছে আইলে বন্ধু আমারে পাইবা না।।
ঘর খুলিয়া বাহির হইয়া জোছনা ধরতে যাই
হাত ভর্তি চান্দের আলো ধরতে গেলে নাই
হাত ইশারায় ডাকে কিন্তু মুখে বলে না
আমার কাছে আইলে বন্ধু আমারে পাইবা না।। 
ভিডিও লিংক- https://youtu.be/pt1Lcfs2Q2Y?list=PLS1Hg7Qpin0RgzvTf6xai0ZDZcxAtENB6 https://youtu.be/X36e9N_mcjk?list=PLS1Hg7Qpin0RgzvTf6xai0ZDZcxAtENB6
৫।
 আমার আছে জল 

সেই জলে যেনো পদ্ম পুকুর

মেঘলা আকাশে মধ্য দুপুর

অচেনা এক বন বাঁশি সুর
বিষাদে কোমল ।। 

আমার একা সেই কালো দিঘি
একাই আমি জলে নামি
আর কেউ নেই তো কাছে ও দূরে
অন্য ভুবনে থাকো তুমি
আমার একার সেই দীঘিতে ফোটাই নীলকমল।। 

ঝুম বরষা ঘন কালো মেঘে
উল্লাসে নাচি একা আমি
কেউ নেই পাশে মেঘে বৃষ্টিতে
ভিন গ্রহবাসী আজ তুমি

আমার একার জলত সবই শুধু অশ্রুজল।। 


৬। 
হও যদি তুমি নীল আকাশ , আমি মেঘ হব আকাশে
হও যদি অথৈ সাগর , আমি ঢেউ হব সাগরে
হও যদি ওই হিমালয়, তোমাকে করব আমি জয়
তোমাকে চাই তোমাকে, তুমি যে আর কারো নয়
বলতে পারি আমি নির্ভয়ে- তুমি আছ হৃদয়ে।

তুমি হলে ওই অরণ্য আমি হব সবুজ
ও তোমারই প্রেম মন দুরন্ত তোমার কাছেই অবুঝ।। 


আমারি দেহে প্রাণ গো তুমি, তুমি আমার নিশ্বাস
ও তোমাকে ছাড়া নিস্প্রাণ আমি এই ত আমার বিশ্বাস।।

মাথায় পরেছি সাদা ক্যাপ

হাতে আছে অচেনা এক শহরের ম্যাপ।। 


ব্যাগ ঝুলিয়েছি কাঁধে
 নামবো রাজপথে,

চারিদিকে ঝলমলে রোদ

কেটে যাবে আঁধারের ছায়া-অবরোধ।

চারিদিকে কী আনন্দ,

অতি তুচ্ছ পতঙ্গেরও অপূর্ব জীবন,

হয়তো শিশির কণারও আছে
শুধু তার একান্ত একা আনন্দেরই ক্ষণ।। 

আমি বলি, এই যে ব্রাদার হ্যালো
আমি কে? এইটুকু আমাকে শুধু বলো
কোত্থেকে এসেছি আমি, ঠিকানাটা কী
এই জীবনে কী দেখেছি, কী দেখিনি।
দেখেছি মায়াময় দুই দুয়ারী ঘর

সেইখানে বাস করে অশ্রু কারিগর।

তাকে ঘিরে টলমল করে নীলমণি দুঃখ সাগর।।


দুই দুয়ার, খুলে দাও ভাই

অশ্রুর অবসান চাই।

নিয়ে এসো চারদিকে ঝলমলে রোদ

কেটে যাক আঁধারের ছায়া-অবরোধ।।। 



৮। 
বরষার প্রথম দিনে ঘন কালো মেঘ দেখে
আনন্দে যদি কাঁপে তোমার হৃদয়

সেদিন তাহার সাথে করো পরিচয়

কাছে কাছে থেকেও যে কভু কাছে নয়।। 



জীবনের সব ভুল যদি ফুল হয়ে যায়
যদি কোনো দিন আসে 
জোছনার আঁচলে ঢাকা মধুর সময়

তখন কাছে এসো, তাহাকে ভালোবেসো

সেদিন তাহার সাথে করো পরিচয়।। 


জীবনের সব কালো যদি আলো হয়ে যায়
দূর হয়ে যায় যদি ছায়াদের আঁধার সময়

তখন কাছে এসো, তাহাকে ভালোবেসো

ছায়াময়ী কারো সাথে করো পরিচয়।।


ভিডিও লিংক- https://youtu.be/qruJnXLrAvE


৯। 
বাদলা দিনে মনে পড়ে ছেলেবেলার গান
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এলো বান
যদি ডেকে বলি, এসো হাত ধরো
চলো ভিজি আজ বৃষ্টিতে
এসো গান করি মেঘমল্লারে
করুণ ধরার দৃষ্টিতে।। 

আসবে না তুমি; জানি আমি জানি
অকারণে তবু কেন কাছে ডাকি
কেন মরে যাই তৃষ্ণাতে
 এসো না চলো জলে ভিজি
শ্রাবণ রাতের বৃষ্টিতে।। 

কত না প্রণয়, ভালোবাসাবাসি
অশ্রু সজল কত হাসাহাসি
চোখে চোখ রাখা জলছবি আঁকা
বকুল আমি হারাতে
কাছে থেকেও তুমি কত দূরে
আমি মরে যাই তৃষ্ণাতে।। 
ভিডিও লিংক- https://youtu.be/5DVT60VTP7o
মরিলে কান্দিস না আমার দায়।
রে যাদু ধন মরিলে কান্দিস না আমার দায়।। 
সুরা ইয়াসীন পাঠ করিও বসিয়া কাছাই
যাইবার কালে বাঁচি যেন শয়তানের ধোঁকায়।। 
বুক বান্ধিয়া কাছে বইসা গোছল করাইবা
কান্দনের বদলে মুখে কলমা পড়িবা।
কাফন পিন্দাইয়া আতর গোলাপ দিয়া গায়
তেলাওয়াতের ধ্বনি যেন ঘরে শোনা যায়।
কাফন পড়িয়া যদি কান্দো আমার দায়
মসজিদে বসিয়া কাইন্দো আল্লারই দরগায়।। 
ভিডিও লিংক- https://youtu.be/mzb92351Tak
ধন্যবাদ, সবাইকে!  

Comments

  1. হুমায়ূন আহমেদের সবগুলো গানের কথাই অসাধারণ।

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

জহির রায়হানের জীবন ও কর্মে বাঙালি জাতীয়তাবাদ

   ‘গুরুমশাই, অন্ধকারে কে দেখাবে মানচিত্রখানা? মাথার মধ্যে দৃশ্য নানা, স্মৃতির মধ্যে অজস্র ফুল, তাঁর সুবাসেই দেশকে পাচ্ছি বুকের কাছে’ নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী / দেশ দেখাচ্ছে অন্ধকারে স্মৃতিকে স্মরণে রেখে বুকের মধ্যে দেশকে অনুভব করা ও ক্ষণে ক্ষণে কথায়-কর্মে  তার প্রকাশ ঘটাতে পারা মানুষের সংখ্যা খুব কম- হাতে গোনা। জহির রায়হান সে রকম একজন। শুধু বাংলা চলচ্চিত্র নয় সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও রাজনীতিতে তিনি দেখেছেন দেয়ালে পিঠ থেকে যাওয়া বাঙালির কাঙ্ক্ষিত  মুক্তির স্বপ্ন।  বাঙালির ঐতিহ্য-চিন্তা-মনন-দুর্দশা-লিপ্সা নিপুণ তুলিতে যেমন এঁকেছেন উপন্যাস ও গল্পের খেরোখাতায়, তেমনি বন্দী করে রেখেছেন তার চলমান ছবি সেলুলয়েডের ফিতায়।  বাঙালির স্বাধীনতার জন্য তিনি দেশান্তর হয়েছিলেন, হন্যে হয়ে বিশাল ভারতের বিশাল জনসমুদ্রে হেঁটে বেড়িয়েছেন, আন্তর্জাতিক সমাবেশে জনমত গড়ে তুলেছেন এবং ঘরে অসুস্থ স্ত্রী ও পরিবারকে অভুক্ত রেখে উপার্জিত অর্থ বিলেয়ে দিয়েছেন ভারতে বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য।  বাংলা চলচ্চিত্রের নান্দনিক স্থপতি হিসেবে বাংলা সংস্কৃতিকে যেমন তিনি দিয়েছেন স...

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী: দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা নওয়াব।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে মুসলমান সমাজ কিছুটা সচেতন এবং নিজেদের অবস্থার উন্নয়নে সচেষ্ট হয়ে উঠে। ইংরেজ সরকার কর্তৃক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিপীড়নের ফলেই মুসলমানরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থেকেছে। ফলে তাদের মধ্যে এমন সব কুসংস্কার এসে বাসা বেঁধেছে যা তৎকালীন নারী সমাজের সর্বাধিক দুঃখের ও কষ্টের কারন হয়েছে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষে মুসলমান সমাজ কিছুটা সচেতন এবং নিজেদের অবস্থার উন্নয়নে সচেষ্ট হয়ে উঠেছিলেন। সমাজ পরিবর্তনের এ দায়িত্ব যারা হতে তুলে নিয়েছিলেন ফয়জুন্নেসা তাদেরই একজন। শিক্ষা, দীক্ষায়, কর্মে ও সম্পদে বাঙালি জাতি উন্নত হবে। প্রতিষ্ঠিত করে নিবে বিশ্বের বুকে আপন মর্যাদার আসন, এটাই ছিল তাঁর আজীবন সাধনা। উনবিংশ শতকের চতুর্থ দশকে পূর্ব বাংলার এক নির্ভৃত পল্লীতে জন্মগ্রহন করে যে নারী অমর অবদান রেখে গেছেন তা চিরদিন ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।  নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী  ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা  নওয়াব । তিনি অনেকটা নিজের অদম্য ইচ্ছার কারনে শিক্ষিত হন।  শিক্ষা , সমাজকল্যাণ ও সেবাব্রতে তিনি যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন তা ইতিহাসে বিরল । জন্ম নওয়াব ফয়জুন্নেস...