Skip to main content

Posts

কবিতা- আকাঙ্ক্ষা

আমি যদি হতাম ফুটপাতে শুয়ে থাকা কুষ্ঠ রোগীর দগদগে ক্ষতে অনবরত উড়তে থাকা মাছির ডানা আমি যদি হতাম তিনদিন ধরে উপোস করা  গিন্নীটির আধোয়া ডেগচির নিচে জমাট বাঁধা কালি, তার ভাঙা চূড়িতে শুকিয়ে যাওয়া ক্ষুধার্ত শিশুর অশ্রুর দাগ আঙুলের টোকায় যদি আমি শূণ্যে আমি ডিগবাজি খেতাম নর্দমায় কিলবিল করে যে পোকাটি প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে চলেছে মানুষের দুর্গন্ধ তার মতোন আমি যদি হতাম ফেরিওয়ালা সেই কিশোরীর  কপোলে চিকচিক করা ঘামের বিন্দু আট নম্বর বাসে আচার বেচতে গিয়ে  এক নষ্ট পুরুষ যার বুকে হাত দিয়েছিল, যদি আমি হতাম অর্ধ উলঙ্গ সেই উন্মাদের অপরিচ্ছন্ন নাকের পিছুটি যার গায়ে এক কুকুর বদ্ধ শীতের রাতে প্রস্রাব করে দৌড় মেরেছিল, আমি যদি হতাম ক্ষুধার্ত কাকের চোখে বুভুক্ষু নগরীর উচ্ছিষ্ট লেজহীন মড়া মুরগীর ঠ্যাং, জন্মে আমার চিরকালীন ঘৃণা তবু আমি যদি হতাম প্রসূতির প্রসব যন্ত্রণায় আরশভেদী কান্নার অনুরণন আমি যদি হতাম সারারাত চিৎকার করা এক মাতাল কবির বিষাক্ত সময়ের একটি রাত তবে, স্বার্থপর ঈশ্বরের মুখে মূত্র বিসর্জন করতে প্রেমিকার উদ্ধত বুকে সশব্দে থু থু ছিটাতে টিকটিকির সভ্যতাকে দু পায়ে জোঁকের মতো পিষে ফেলতে আমি একটু হলেও...
Recent posts

কবিতা: ক্ষয়িষ্ণু ব্রহ্মা

 একবার চে’র বিপ্লবী বীর্যে জন্ম হতে গিয়ে জননীর জরায়ুতে আমার জীবন আটকে ছিল দেড় দিন। খুশিতে ডগমগ বুড়ো সক্রেতিস হাততালি দিতে দিতে মরেই গেল। ঈশান হাওয়ার দমকায় আচমকা কেঁপে উঠল রবীন্দ্রনাথের আচকান । অথর্ব ঈশ্বর পিটপিট চোখে তাকিয়ে বলল, এ নির্ঘাত দান্তের যান্ত্রিক ঘাতক। হা হা হা। বার কয়েক মৃত্যুর পর আমি এখন হেঁটে যাচ্ছি। চারপাশ নিঃশব্দ। ২৬/০৬/২০১৫, ঢাবি

তিনটি কবিতা

খণ্ডিত তিরোধান অনিবার্য সংশয় ছেড়ে করাল মুক্তির পথে, সংকীর্ণ স্বপ্নের মুখে বিস্তীর্ণ আগ্রাসী অক্টোপাস উদ্বৃত্ত দ্রাক্ষা লোটে নপুংশক কাম, পেলাম বটে বিক্ষত ক্লেদাক্ত তৃষা! চৌষট্টিরূপ আদিম ছলাকলার লীলা, অনুভূতিহীন; কে যেন অন্ধ করেছে আমার চোখ।             তবু জ্বলন্ত শিখায় প্রার্থনা সিদ্ধ হোক! একদিন এ শহরে ধরো , এই শহরে তোমাকে ,  আমাকে কেউ চেনেনা , আমাদের পরিচিত নয় দেড়কোটি মানুষের কোনএকজন । আমরা হাতে হাত রেখে হেঁটে যাই মায়াহীন এ নগরীর ধুলিময় কোলাহলে -  ফুটপাথে ,  গলিতেগলিতে চায়ের উষ্ণ ধোঁয়ায় দুঃখ উড়াই , খুনসুটি করি জমে যাই টিএসসির প্রাণবন্ত আড্ডায় ভাবো , প্রতিটি যুগল তরুণ তরুণীর হাতে ,  চোখে , গ্রীবায় ,  ওষ্ঠে আঁচড়ে পড়ছে আমাদের স্ফূর্তি ও উচ্ছ্বাসের ঢেউ দূরের উড়ন্ত চিল আর বিকেলের সোনালি ঘাস মিলে যায় আমাদের প্রগাঢ় নিঃশ্বাসে । তারপর আলো মরে গেলে আমরা অন্ধকারে ডুব দিবো , সাঁতরে পৌঁছে যাবো অনাদি ইতিহাসের ঘাটে ঘাটে - ইজিয়ান সাগরের কুলে বসে নবোপলীয় যুগের বাতাস টেনে নীল জলে দুইজোড়া চোখ খুঁজে বেড়াবে ক্রিট কিংবা শ্বেত মিন...

কবিতা- সন্ধ্যাক্রান্ত

  শ্রাবণের ঘোর লাগা সন্ধ্যায় খামচে ধরা আস্তিনের মত গুটিসুটি বসে বারান্দায় । ভুলের চোখে আঙুল দিয়ে দেখার মত স্পষ্ট অন্ধকার নির্মোহ দৃষ্টির কাছে পরাজিত প্রচ্ছন্ন  ভাবনাগুলোও মিথ্যে ছিল না দৃষ্টিসীমায় ছিল না সে কখনো সুলোচনা । ভাবছো- কেউ নিশ্চয় পাশে আজ । নেই । অদৃশ্য তার মূর্তি খুঁজি বারে বার বেঁচে থাকার স্বপ্ন ঠুকি অন্ধ তিমিরেই । ৩০.০৭.১৪ কুমিল্লা

কবিতা- হেরাকলসের পরোয়ানা

 বৃত্ত থেকে কেন্দ্রে, কেন্দ্র থেকে বৃত্তে একজন কবি দিনরাত অবিরাম পায়চারি করছিলেন; টলায়মান তার পদব্রজে চশমা পরিহিত একজন সামনে এসে বললেন, ‘দ্বিধাগ্রস্ত ভ্রমণ কি সরলরেখা হারিয়ে ফেলার নামান্তর?’ ওরকম ভাবতেই পারো, বন্ধু তবিব যে রকম অভ্যেসে করে গেছি স্বপ্নে যাপন যে রকম সংরক্ত স্পর্শ করি টলটলে বৃষ্টির জল যে রকম চিৎকার করি ছিটগ্রস্ত পথিকের মতন প্রবল প্রশ্বাসে টানি মনোক্সাইড বায়ু । কেউ কি দেখেছে কী রকম ডিগবাজি খাই সামান্য উষ্ঠায় খানাখন্দ ভরা বিনাশ্নের এপার ওপার। দাঁত কেলিয়ে হাসতে হাসতে প্রিয়দর্শন চোখগুলোতে থকথকে লালা ছিটাই সংহত বৃক্ষ হয়ে জড়িয়ে নিই গুণার বাঁধন- ভ্রমচারী হলে বুঝি কাল বিঁধে এত তীব্র শর? ঊর্ধ্ব ক্রমশ কৈশিক হয়ে আসে  তবু নির্ভয়ে থেকো, বন্ধু তবিব- নষ্ট কাগজ পোড়ালেও বেশি জ্বলে।  উৎসর্গ- বন্ধু Tabibur Rahman কে 💚💚

কামরুল কাইসের ১০ কবিতা

১. মহামারি  স্থির সময় অথির বেগে দ্যাখায় যেন অসময়ের ফল। ২. মিতালি ওসব কথা থাক- একটু নিবিড় চঞ্চু তোমার নদীর যেন বাঁক। দৃশ্যে মাখো কালি‌ - তীরে বসে দেখছি নদী দিচ্ছি শিস আর তালি। দন্তসমেত হাঙর ছোটে করাল স্রোতে তোর আমি ডাকি শান্ত দোয়েল  তাতেই নষ্ট ভোর! আজকে এসব রাখ- অল্প কথার কথকতা দূর মিলিয়ে যাক। ৩. প্রাপ্তি মেঘের কান্না দেখব বলে আকাশে তাকিয়েছিলাম নেই, নেই কান্না শুধু এ মনেই। ঊষরতা পাবো বলে মরুভূমি চেয়েছিলাম নেই, নেই ফুল ফোটা সবখানেই। কাকে ছোঁব বলে যেন হাত বাড়িয়ে ছিলাম নেই, নেই রয়ে গেছে সে চির ভাবনাতেই। ৪. স্বাধীনতার সনেট ভেসে ছিল দেশ যবে শোণিত ধারায়, আর্তের ক্রন্দনে ছিল স্পর্শ বেদনার। পাখির সুরেলা কণ্ঠ বন্ধ ছিল হায়! হৃদয়-রক্ত ক্ষরণে বাংলা নিঃসাড়, রবির কিরণ নেই ঊষা-নীলিমায়, আকাশে ভাসল ধোঁয়া বারুদ বোমার পান্থ শ্রান্তি সারল না অশ্বত্থ ছায়ায়- অপরাহ্ণে নেমে এল নিকষ আঁধার! মাঠের সবুজতায় রক্তিম পরশ স্বাধীন প্রাণ স্পন্দন এলো অবশেষে- কণ্ঠে জাগাল সংগীত সপ্তসুর এসে! চেতনার রন্ধ্রে পূর্ণ গভীর হরষ উচ্ছসি হল উদ্ভাস। আজো বহমান। স্বাধীন-তটিনী-ধারা, হবে না প্রয়াণ। ৫. অপহৃত আকাশ যদি না কখনো গোধূ...

প্রিয় ২০টি সিনেমা

প্রথমেই বলে রাখি, যে কোন কিছু সেরা বা প্রিয় হওয়া ব্যক্তি নিরপেক্ষ।  সময়ের সঙ্গে তার বদল ঘটতেও পারে। তবু  এ মুহূর্তে আমার দেখা অসংখ্য সিনেমার মধ্যে কিছু সিনেমা অনেকের ভাল লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস।   সেই ১৮৯৫ সালে প্রথম বাণিজ্যিক সিনেমার পরে বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত কম হলেও ২৫ লক্ষ সিনেমা তৈরি হয়েছে! খুব স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষ সারা জীবনে এর সিকিভাগ সিনেমাও দেখে শেষ করতে পারবে না। বই ও সংগীতের পরে আমার কাছে বিনোদন ও শিক্ষার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম মনে হয় সিনেমাকে। বেছে বেছে সিনেমা দেখলেও সব ছবি হৃদয় ও মগজে একসাথে দাগ কাটে না। কিছু ছবির গল্প অনুপ্রেরণার মাধ্যমে স্বপ্নকে তাড়িয়ে তোলে। কিছু ছবির সিনেমাটোগ্রাফি এত দৃষ্টিনন্দন যে চোখের রেটিনায় লেপ্টে থাকে দীর্ঘদিন। কখনো সংলাপ, কখনো অভিনয় কিংবা সব মিলিয়ে একটি ছবি হয়ে ওঠে অনন্য ও দর্শকপ্রিয়। করোনাকালের এই অবসরে বসে বসে আমার দেখা সেরা ২০ টি সিনেমার একটি তালিকা তৈরি ফেললাম। ১। ফরেস্ট গাম্প (১৯৯১) ফরেস্ট গাম্প এক বোকা লোকের সহজ সরলভাবে বেঁচে থাকার গল্প। ফরেস্ট গাম্প কীভাবে ঘটনাক্রমে তার জীবনকে আমেরিকার ইতিহাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্...