আমি যদি হতাম ফুটপাতে শুয়ে থাকা কুষ্ঠ রোগীর দগদগে ক্ষতে অনবরত উড়তে থাকা মাছির ডানা আমি যদি হতাম তিনদিন ধরে উপোস করা গিন্নীটির আধোয়া ডেগচির নিচে জমাট বাঁধা কালি, তার ভাঙা চূড়িতে শুকিয়ে যাওয়া ক্ষুধার্ত শিশুর অশ্রুর দাগ আঙুলের টোকায় যদি আমি শূণ্যে আমি ডিগবাজি খেতাম নর্দমায় কিলবিল করে যে পোকাটি প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে চলেছে মানুষের দুর্গন্ধ তার মতোন আমি যদি হতাম ফেরিওয়ালা সেই কিশোরীর কপোলে চিকচিক করা ঘামের বিন্দু আট নম্বর বাসে আচার বেচতে গিয়ে এক নষ্ট পুরুষ যার বুকে হাত দিয়েছিল, যদি আমি হতাম অর্ধ উলঙ্গ সেই উন্মাদের অপরিচ্ছন্ন নাকের পিছুটি যার গায়ে এক কুকুর বদ্ধ শীতের রাতে প্রস্রাব করে দৌড় মেরেছিল, আমি যদি হতাম ক্ষুধার্ত কাকের চোখে বুভুক্ষু নগরীর উচ্ছিষ্ট লেজহীন মড়া মুরগীর ঠ্যাং, জন্মে আমার চিরকালীন ঘৃণা তবু আমি যদি হতাম প্রসূতির প্রসব যন্ত্রণায় আরশভেদী কান্নার অনুরণন আমি যদি হতাম সারারাত চিৎকার করা এক মাতাল কবির বিষাক্ত সময়ের একটি রাত তবে, স্বার্থপর ঈশ্বরের মুখে মূত্র বিসর্জন করতে প্রেমিকার উদ্ধত বুকে সশব্দে থু থু ছিটাতে টিকটিকির সভ্যতাকে দু পায়ে জোঁকের মতো পিষে ফেলতে আমি একটু হলেও...
একবার চে’র বিপ্লবী বীর্যে জন্ম হতে গিয়ে জননীর জরায়ুতে আমার জীবন আটকে ছিল দেড় দিন। খুশিতে ডগমগ বুড়ো সক্রেতিস হাততালি দিতে দিতে মরেই গেল। ঈশান হাওয়ার দমকায় আচমকা কেঁপে উঠল রবীন্দ্রনাথের আচকান । অথর্ব ঈশ্বর পিটপিট চোখে তাকিয়ে বলল, এ নির্ঘাত দান্তের যান্ত্রিক ঘাতক। হা হা হা। বার কয়েক মৃত্যুর পর আমি এখন হেঁটে যাচ্ছি। চারপাশ নিঃশব্দ। ২৬/০৬/২০১৫, ঢাবি