Skip to main content

কবিতা- স্বৈরতান্ত্রিক সময়



 আমার ইচ্ছে হয় না

প্রায় মধ্যরাতে লোকাল বাসের শেষ ট্রিপে ঝুলে ঝুলে

অন্ধকারে ধুলিভরা কুয়াশায় ভিজতে ভিজতে
অভুক্ত জ্বর কাতর শরীরটাকে নিয়ে
টলতে টলতে ক্যাম্পাসে ফিরি,
আমার ইচ্ছে হয় না
ক্যান্টিনওয়ালার ডেগচির কাছানো বরফের মত ঠাণ্ডা ভাত
আর পাতার মত নেতিয়ে পড়া মামলেট দিয়ে
ক্ষুধা নিবৃত্তির অপচেষ্টায় অর্ধেক প্লেট বমিতে ভরে ফেলি
আর দু গ্লাস জলের সুবাদে
কোন রকম নিঃশ্বাস নিয়ে কাটিয়ে দেই নির্ঘুম রাত
আমার ইচ্ছে হয় না
কমলাপুর রেলওয়ে ব্রিজের উপর সাজিয়ে রাখা সুদৃশ্য
স্ট্রবেরী খাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে ময়লা কাগজের মত
ছুঁড়ে মেরে ডাস্টবিনে ফেলে দেই
আমার ইচ্ছে হয় না
স্বাদ নিয়ে বড্ড খুঁতখুঁতে আমার জিহ্বায় লাগাই
টিউশনের পিঁপড়া- ভাসা চিনিহীন খয়েরি তরল।
নিম্নাংশ ক্ষয়ে যাওয়া রংচটা জিন্সের ক্ষুব্ধ কয়েকটি সুতো
যখন বলে ওঠে,
আজ লিংকন – মার্ক্স বেঁচে থাকলে তাদের শ্মশ্রু ছিঁড়ে
বাচ্চাদের উপহার দিতাম
যাতে তার বিনিময়ে বাচ্চারা কিছুক্ষণ কটকটি চিবোতে পারে,
তাদের সঞ্চয়ী পাঁজির উপযুক্ত স্থান
বারবিকিওর অভিজাত চুলো
তখন আমার কণ্ঠেও
লক্ষ লক্ষ প্রলেতারিয়েত ক্ষোভ
অসংখ্য অপঘাত, বঞ্চনার সমাকলনে
নিঃশঙ্ক ধ্বনিতে উচ্চারিত হলো,
রাষ্ট্র একটা বাইনচোদ সংগঠন।

Comments

Popular posts from this blog

হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০ গান

হুমায়ূন আহমেদ। ১৩ নভেম্বর ,  ১৯৪৮  –  ১৯ জুলাই ,  ২০১২ গদ্যকার, নাট্যকার , চলচ্চিত্রকার ইত্যাদি নানাবিধ পরিচয়ের বহুল প্রচার তাঁর গীতিকার পরিচয়কে ধামাচাপা দিয়ে রাখছে। হুমায়ূন আহমেদ সত্যিকার অর্থে সর্বদিকেই এক যাদুকরের নাম।  ১৩ নভেম্বর তাঁর জন্মদিন উপলক্ষ্যে আমরা জেনে  নেব  তাঁর লেখা সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০  গানের লিরিক্স। সাথে থাকছে ইউটিউব লিংক!   ১। যদি মন কাঁদে,  তুমি চলে এসো  এক বরষায় এসো ঝর ঝর বৃষ্টিতে, জল ভরা দৃষ্টিতে যদি কোমল শ্যামল ছায়।। যদিও তখন আকাশ থাকবে বৈরী, কদম গুচ্ছ হাতে নিয়ে আমি তৈরী উতলা আকাশ মেঘে মেঘে হবে কালো ঝলকে ঝলকে নাচিবে বিজলি আলো।।  নামিবে আঁধার বেলা ফুরাবার ক্ষণে মেঘমল্লার বৃষ্টির মনে মনে কদমগুচ্ছ খোঁপায় জড়ায়ে দিয়ে জলভরা মাঠে নাচিবো তোমায় নিয়ে।।  ভিডিও লিংক-  https://youtu.be/VBS1yyHTxek?list=PLS1Hg7Qpin0RgzvTf6xai0ZDZcxAtENB6 ২। চাঁদনী পসরে কে আমারে স্মরণ করে কে আইসা দাড়াইসে গো আমার দুয়ারে। তাহারে চিনি না আমি...

জহির রায়হানের জীবন ও কর্মে বাঙালি জাতীয়তাবাদ

   ‘গুরুমশাই, অন্ধকারে কে দেখাবে মানচিত্রখানা? মাথার মধ্যে দৃশ্য নানা, স্মৃতির মধ্যে অজস্র ফুল, তাঁর সুবাসেই দেশকে পাচ্ছি বুকের কাছে’ নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী / দেশ দেখাচ্ছে অন্ধকারে স্মৃতিকে স্মরণে রেখে বুকের মধ্যে দেশকে অনুভব করা ও ক্ষণে ক্ষণে কথায়-কর্মে  তার প্রকাশ ঘটাতে পারা মানুষের সংখ্যা খুব কম- হাতে গোনা। জহির রায়হান সে রকম একজন। শুধু বাংলা চলচ্চিত্র নয় সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও রাজনীতিতে তিনি দেখেছেন দেয়ালে পিঠ থেকে যাওয়া বাঙালির কাঙ্ক্ষিত  মুক্তির স্বপ্ন।  বাঙালির ঐতিহ্য-চিন্তা-মনন-দুর্দশা-লিপ্সা নিপুণ তুলিতে যেমন এঁকেছেন উপন্যাস ও গল্পের খেরোখাতায়, তেমনি বন্দী করে রেখেছেন তার চলমান ছবি সেলুলয়েডের ফিতায়।  বাঙালির স্বাধীনতার জন্য তিনি দেশান্তর হয়েছিলেন, হন্যে হয়ে বিশাল ভারতের বিশাল জনসমুদ্রে হেঁটে বেড়িয়েছেন, আন্তর্জাতিক সমাবেশে জনমত গড়ে তুলেছেন এবং ঘরে অসুস্থ স্ত্রী ও পরিবারকে অভুক্ত রেখে উপার্জিত অর্থ বিলেয়ে দিয়েছেন ভারতে বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য।  বাংলা চলচ্চিত্রের নান্দনিক স্থপতি হিসেবে বাংলা সংস্কৃতিকে যেমন তিনি দিয়েছেন স...

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী: দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা নওয়াব।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে মুসলমান সমাজ কিছুটা সচেতন এবং নিজেদের অবস্থার উন্নয়নে সচেষ্ট হয়ে উঠে। ইংরেজ সরকার কর্তৃক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিপীড়নের ফলেই মুসলমানরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থেকেছে। ফলে তাদের মধ্যে এমন সব কুসংস্কার এসে বাসা বেঁধেছে যা তৎকালীন নারী সমাজের সর্বাধিক দুঃখের ও কষ্টের কারন হয়েছে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষে মুসলমান সমাজ কিছুটা সচেতন এবং নিজেদের অবস্থার উন্নয়নে সচেষ্ট হয়ে উঠেছিলেন। সমাজ পরিবর্তনের এ দায়িত্ব যারা হতে তুলে নিয়েছিলেন ফয়জুন্নেসা তাদেরই একজন। শিক্ষা, দীক্ষায়, কর্মে ও সম্পদে বাঙালি জাতি উন্নত হবে। প্রতিষ্ঠিত করে নিবে বিশ্বের বুকে আপন মর্যাদার আসন, এটাই ছিল তাঁর আজীবন সাধনা। উনবিংশ শতকের চতুর্থ দশকে পূর্ব বাংলার এক নির্ভৃত পল্লীতে জন্মগ্রহন করে যে নারী অমর অবদান রেখে গেছেন তা চিরদিন ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।  নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী  ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা  নওয়াব । তিনি অনেকটা নিজের অদম্য ইচ্ছার কারনে শিক্ষিত হন।  শিক্ষা , সমাজকল্যাণ ও সেবাব্রতে তিনি যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন তা ইতিহাসে বিরল । জন্ম নওয়াব ফয়জুন্নেস...