Skip to main content

তিনটি কবিতা





খণ্ডিত তিরোধান

অনিবার্য সংশয় ছেড়ে করাল মুক্তির পথে,
সংকীর্ণ স্বপ্নের মুখে বিস্তীর্ণ আগ্রাসী অক্টোপাস
উদ্বৃত্ত দ্রাক্ষা লোটে নপুংশক কাম,
পেলাম বটে বিক্ষত ক্লেদাক্ত তৃষা!

চৌষট্টিরূপ আদিম ছলাকলার লীলা,
অনুভূতিহীন; কে যেন অন্ধ করেছে আমার চোখ।
           তবু জ্বলন্ত শিখায় প্রার্থনা সিদ্ধ হোক!


একদিন এ শহরে

ধরো,
এই শহরে তোমাকেআমাকে কেউ চেনেনা,
আমাদের পরিচিত নয় দেড়কোটি মানুষের কোনএকজন

আমরা হাতে হাত রেখে হেঁটে যাই
মায়াহীন এ নগরীর ধুলিময় কোলাহলেফুটপাথেগলিতেগলিতে
চায়ের উষ্ণ ধোঁয়ায় দুঃখ উড়াই,
খুনসুটি করি
জমে যাই টিএসসির প্রাণবন্ত আড্ডায়

ভাবো,
প্রতিটি যুগল তরুণ তরুণীর হাতেচোখে,
গ্রীবায়ওষ্ঠে
আঁচড়ে পড়ছে আমাদের স্ফূর্তি ও উচ্ছ্বাসের ঢেউ
দূরের উড়ন্ত চিল আর বিকেলের সোনালি ঘাস মিলে যায় আমাদের প্রগাঢ় নিঃশ্বাসে

তারপর আলো মরে গেলে আমরা অন্ধকারে ডুব দিবো,
সাঁতরে পৌঁছে যাবো অনাদি ইতিহাসের ঘাটে ঘাটে-

ইজিয়ান সাগরের কুলে বসে
নবোপলীয় যুগের বাতাস টেনে
নীল জলে দুইজোড়া চোখ খুঁজে বেড়াবে
ক্রিট কিংবা শ্বেত মিনোয়ার দ্বীপ

দেখো,
সমিল হাতে আমরাও লিখবো
রজেটা পাথরে রহস্যময় লিপি,
বোসার্দ কিংবা শ্যাম্পেলিয়ঁ কেউ তার অর্থ খুঁজবেনা,
বুঝবেনা

তোমার কনে আঙুল রবে আমার পূর্ণঅধিকারে
আমরা ভাসবো,
উড়বো ধীরে ধীরে
লক্ষবর্ষ মহাশূন্যের পথে
ঠাই যদি নাই হয় কালকেতু-ফুল্লরার দেশে!

বৃষ্টি এলোনা এলোতাতে কী!
ঢাকার হুডখোলা চাররঙা রিকশায় আমরা চড়ে যাবো অনন্তকাল
ভাইয়া কিংবা আপুর ভয়ে কেউ আর আড়ষ্ট হয়ে থাকবো না

ভাবো,
কেউ এখানে আমাদের চেনা নেই,
আমাকে-তোমাকে ও চেনেনা কেউ

বলোসখীতাতেও কি কাটবে না
গোপন লজ্জা তোমার?

হিসেব

আমাকে নিঃশেষ করো ক্ষণেক্ষণে
আমাকে ধ্বংস করো হরপ্পার মতো
আমাকে বাবরির মতো কোপাতে থাকো
আমার মস্তিষ্কে আঘাত করো চার্বাকের ছুরিতে,

সমুদ্রআমাকে পূর্ণ প্লাবিত করো
দেশহীন নদীর চক্রে হারিয়ে যাই,
এঁদো ডোবার কানাচে করি কান্না,
মৃত্যু চাই তবু
জীবনকে ভালবেসে যাই।

প্রেয়সীর বুকের ওম মেখে ঘুম আর নয়,
তিলোত্তমায় পবিত্র চুম্বনও থাক,
মহাকালের নিকট আমার
পাওনা বুঝিয়ে দাও।

Comments

Popular posts from this blog

হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০ গান

হুমায়ূন আহমেদ। ১৩ নভেম্বর ,  ১৯৪৮  –  ১৯ জুলাই ,  ২০১২ গদ্যকার, নাট্যকার , চলচ্চিত্রকার ইত্যাদি নানাবিধ পরিচয়ের বহুল প্রচার তাঁর গীতিকার পরিচয়কে ধামাচাপা দিয়ে রাখছে। হুমায়ূন আহমেদ সত্যিকার অর্থে সর্বদিকেই এক যাদুকরের নাম।  ১৩ নভেম্বর তাঁর জন্মদিন উপলক্ষ্যে আমরা জেনে  নেব  তাঁর লেখা সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০  গানের লিরিক্স। সাথে থাকছে ইউটিউব লিংক!   ১। যদি মন কাঁদে,  তুমি চলে এসো  এক বরষায় এসো ঝর ঝর বৃষ্টিতে, জল ভরা দৃষ্টিতে যদি কোমল শ্যামল ছায়।। যদিও তখন আকাশ থাকবে বৈরী, কদম গুচ্ছ হাতে নিয়ে আমি তৈরী উতলা আকাশ মেঘে মেঘে হবে কালো ঝলকে ঝলকে নাচিবে বিজলি আলো।।  নামিবে আঁধার বেলা ফুরাবার ক্ষণে মেঘমল্লার বৃষ্টির মনে মনে কদমগুচ্ছ খোঁপায় জড়ায়ে দিয়ে জলভরা মাঠে নাচিবো তোমায় নিয়ে।।  ভিডিও লিংক-  https://youtu.be/VBS1yyHTxek?list=PLS1Hg7Qpin0RgzvTf6xai0ZDZcxAtENB6 ২। চাঁদনী পসরে কে আমারে স্মরণ করে কে আইসা দাড়াইসে গো আমার দুয়ারে। তাহারে চিনি না আমি...

জহির রায়হানের জীবন ও কর্মে বাঙালি জাতীয়তাবাদ

   ‘গুরুমশাই, অন্ধকারে কে দেখাবে মানচিত্রখানা? মাথার মধ্যে দৃশ্য নানা, স্মৃতির মধ্যে অজস্র ফুল, তাঁর সুবাসেই দেশকে পাচ্ছি বুকের কাছে’ নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী / দেশ দেখাচ্ছে অন্ধকারে স্মৃতিকে স্মরণে রেখে বুকের মধ্যে দেশকে অনুভব করা ও ক্ষণে ক্ষণে কথায়-কর্মে  তার প্রকাশ ঘটাতে পারা মানুষের সংখ্যা খুব কম- হাতে গোনা। জহির রায়হান সে রকম একজন। শুধু বাংলা চলচ্চিত্র নয় সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও রাজনীতিতে তিনি দেখেছেন দেয়ালে পিঠ থেকে যাওয়া বাঙালির কাঙ্ক্ষিত  মুক্তির স্বপ্ন।  বাঙালির ঐতিহ্য-চিন্তা-মনন-দুর্দশা-লিপ্সা নিপুণ তুলিতে যেমন এঁকেছেন উপন্যাস ও গল্পের খেরোখাতায়, তেমনি বন্দী করে রেখেছেন তার চলমান ছবি সেলুলয়েডের ফিতায়।  বাঙালির স্বাধীনতার জন্য তিনি দেশান্তর হয়েছিলেন, হন্যে হয়ে বিশাল ভারতের বিশাল জনসমুদ্রে হেঁটে বেড়িয়েছেন, আন্তর্জাতিক সমাবেশে জনমত গড়ে তুলেছেন এবং ঘরে অসুস্থ স্ত্রী ও পরিবারকে অভুক্ত রেখে উপার্জিত অর্থ বিলেয়ে দিয়েছেন ভারতে বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য।  বাংলা চলচ্চিত্রের নান্দনিক স্থপতি হিসেবে বাংলা সংস্কৃতিকে যেমন তিনি দিয়েছেন স...

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী: দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা নওয়াব।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে মুসলমান সমাজ কিছুটা সচেতন এবং নিজেদের অবস্থার উন্নয়নে সচেষ্ট হয়ে উঠে। ইংরেজ সরকার কর্তৃক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিপীড়নের ফলেই মুসলমানরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থেকেছে। ফলে তাদের মধ্যে এমন সব কুসংস্কার এসে বাসা বেঁধেছে যা তৎকালীন নারী সমাজের সর্বাধিক দুঃখের ও কষ্টের কারন হয়েছে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষে মুসলমান সমাজ কিছুটা সচেতন এবং নিজেদের অবস্থার উন্নয়নে সচেষ্ট হয়ে উঠেছিলেন। সমাজ পরিবর্তনের এ দায়িত্ব যারা হতে তুলে নিয়েছিলেন ফয়জুন্নেসা তাদেরই একজন। শিক্ষা, দীক্ষায়, কর্মে ও সম্পদে বাঙালি জাতি উন্নত হবে। প্রতিষ্ঠিত করে নিবে বিশ্বের বুকে আপন মর্যাদার আসন, এটাই ছিল তাঁর আজীবন সাধনা। উনবিংশ শতকের চতুর্থ দশকে পূর্ব বাংলার এক নির্ভৃত পল্লীতে জন্মগ্রহন করে যে নারী অমর অবদান রেখে গেছেন তা চিরদিন ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।  নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী  ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা  নওয়াব । তিনি অনেকটা নিজের অদম্য ইচ্ছার কারনে শিক্ষিত হন।  শিক্ষা , সমাজকল্যাণ ও সেবাব্রতে তিনি যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন তা ইতিহাসে বিরল । জন্ম নওয়াব ফয়জুন্নেস...