খণ্ডিত তিরোধান
অনিবার্য সংশয় ছেড়ে করাল মুক্তির পথে,
সংকীর্ণ স্বপ্নের মুখে বিস্তীর্ণ আগ্রাসী অক্টোপাস
উদ্বৃত্ত দ্রাক্ষা লোটে নপুংশক কাম,
পেলাম বটে বিক্ষত ক্লেদাক্ত তৃষা!
চৌষট্টিরূপ আদিম ছলাকলার লীলা,
অনুভূতিহীন; কে যেন অন্ধ করেছে আমার চোখ।
তবু জ্বলন্ত শিখায় প্রার্থনা সিদ্ধ হোক!একদিন এ শহরে
ধরো,
এই শহরে তোমাকে, আমাকে কেউ চেনেনা,
আমাদের পরিচিত নয় দেড়কোটি মানুষের কোনএকজন।
আমরা হাতে হাত রেখে হেঁটে যাই
মায়াহীন এ নগরীর ধুলিময় কোলাহলে- ফুটপাথে, গলিতেগলিতে
চায়ের উষ্ণ ধোঁয়ায় দুঃখ উড়াই,
খুনসুটি করি
জমে যাই টিএসসির প্রাণবন্ত আড্ডায়
ভাবো,
প্রতিটি যুগল তরুণ তরুণীর হাতে, চোখে,
গ্রীবায়, ওষ্ঠে
আঁচড়ে পড়ছে আমাদের স্ফূর্তি ও উচ্ছ্বাসের ঢেউ
দূরের উড়ন্ত চিল আর বিকেলের সোনালি ঘাস মিলে যায় আমাদের প্রগাঢ় নিঃশ্বাসে।
তারপর আলো মরে গেলে আমরা অন্ধকারে ডুব দিবো,
সাঁতরে পৌঁছে যাবো অনাদি ইতিহাসের ঘাটে ঘাটে-
ইজিয়ান সাগরের কুলে বসে
নবোপলীয় যুগের বাতাস টেনে
নীল জলে দুইজোড়া চোখ খুঁজে বেড়াবে
ক্রিট কিংবা শ্বেত মিনোয়ার দ্বীপ।
দেখো,
সমিল হাতে আমরাও লিখবো
রজেটা পাথরে রহস্যময় লিপি,
বোসার্দ কিংবা শ্যাম্পেলিয়ঁ কেউ তার অর্থ খুঁজবেনা,
বুঝবেনা।
তোমার কনে আঙুল রবে আমার পূর্ণঅধিকারে
আমরা ভাসবো,
উড়বো ধীরে ধীরে
লক্ষবর্ষ মহাশূন্যের পথে
ঠাই যদি নাই হয় কালকেতু-ফুল্লরার দেশে!
বৃষ্টি এলো, না এলো- তাতে কী!
ঢাকার হুডখোলা চাররঙা রিকশায় আমরা চড়ে যাবো অনন্তকাল
ভাইয়া কিংবা আপুর ভয়ে কেউ আর আড়ষ্ট হয়ে থাকবো না।
ভাবো,
কেউ এখানে আমাদের চেনা নেই,
আমাকে-তোমাকে ও চেনেনা কেউ।
বলো, সখী, তাতেও কি কাটবে না
গোপন লজ্জা তোমার?
হিসেব
আমাকে নিঃশেষ করো ক্ষণেক্ষণে
আমাকে ধ্বংস করো হরপ্পার মতো
আমাকে বাবরির মতো কোপাতে থাকো
আমার মস্তিষ্কে আঘাত করো চার্বাকের ছুরিতে,
সমুদ্র, আমাকে পূর্ণ প্লাবিত করো
দেশহীন নদীর চক্রে হারিয়ে যাই,
এঁদো ডোবার কানাচে করি কান্না,
মৃত্যু চাই তবু
জীবনকে ভালবেসে যাই।
প্রেয়সীর বুকের ওম মেখে ঘুম আর নয়,
তিলোত্তমায় পবিত্র চুম্বনও থাক,
মহাকালের নিকট আমার
পাওনা বুঝিয়ে দাও।

Comments
Post a Comment